এই উপন্যাসের মূল চরিত্র চারটি। এক, কলেজ স্ট্রিটের এক প্রকাশনা সংস্থার মালিক জয়দেব। চৈতন্যদেবের অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে সে রিসার্চে ব্যস্ত গত কয়েক বছর ধরে। পুরীতে সে নিয়মিত যাতায়াত করে তাঁর রিসার্চের কারণে।
দুই, নবদ্বীপের মেয়ে উপাসনা। বৈষ্ণব সাহিত্য নিয়ে তাঁর প্রচুর আগ্রহ। নবদ্বীপের এক আচার্যের উৎসাহে সেও মহাপ্রভুকে নিয়ে গবেষণা করতে এসেছে কলকাতায়। তাঁর বিষয় একটু আলাদা। আচার্য তাঁকে বলেছেন, নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার আগে মহাপ্রভু নাকি তাঁর পঞ্চসখাকে বলে যান, পাঁচশো বছর পর তিনি ফের ফিরে আসবেন মর্ত্যধামে। তার মানে, কোথাও না কোথাও মহাপ্রভু জন্ম নিয়েছেন। জন্মান্তরে বিশ্বাসী উপাসনা তাঁকেই খুঁজে বের করতে চায়।
তিন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র গোরা। ভুবনেশ্বরের ছেলে, দলিত পরিবারে বড় হয়েছে।
অল্প বয়স থেকে সে দলিত আন্দোলনে যুক্ত হয়ে গিয়েছে। গোঁড়া বৈষ্ণব পরিবারের ছেলে বলেই চৈতন্যদেব সম্পর্কে তাঁর অপরিসীম ভক্তি। হঠাৎ গোরা আবিষ্কার করে, মহাপ্রভুর জীবনে যা যা ঘটেছে, তাঁর জীবনেও তাই ঘটছে। সে অতীতের অচেনা, অজানা জগৎটাকে হঠাৎ হঠাৎ দেখতে পাচ্ছে। এটা তাঁর মানসিক রোগ কিনা গোরা বুঝতে পারছে না। চার, পুরীর এক অনাথ আশ্রমে মানুষ হওয়া
পুরন্দর। বলশালী এই যুবক অতীব নিষ্ঠুর প্রকৃতির। সে কাজ করে এক গোপন সংস্থার হয়ে। হেড কোয়ার্টার্সের নির্দেশে সে খুন করে বেড়ায় চৈতন্যপ্রেমী ভক্তদের। জয়দেবকে খুন করার অভিপ্রায়ে যে কলকাতায় এসেছে, কিন্তু চেষ্টা করেও জয়দেবকে সে বাগে পাচ্ছে না। জয়দেব পুরীতে যাচ্ছে রিসার্চ শেষ করার তাগিদে। উপাসনাও একই কারণে পুরীগামী তাঁর নবদ্বীপের বন্ধু স্বাতীর সঙ্গে। গোরা ভুবনেশ্বর যাচ্ছে মায়ের ডাকে। আর জয়দেবকে খুন করার জন্য পুরুন্দর পিছু নিয়েছে। পুরী যাওয়ার ট্রেনের একই কামরায় এঁরা চারজনই হাজির। উত্তেজনার শুরু সেই ট্রেনযাত্রা থেকে। জয়দেবকে কি খুন করতে পারল পুরন্দর? উপাসনা কি খুঁজে বের করতে পারল পুনর্জন্ম নেওয়া মহাপ্রভুকে? গোরাই বা আসলে কে। পুরন্দরের কী হল? সর্বশেষে, জয়দেব কি তাঁর রিসার্চ শেষ করতে পারল। মহাপ্রভুকে কি সত্যিই হত্যা করা হয়েছিল। এই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে উপন্যাসের শেষে।
Bengali Books, Religion & Spirituality
Khoma Karo Hey Prabhu || Rupak Saha || ক্ষমা করো হে প্রভু || রুপক সাহা
₹600.00



Reviews
There are no reviews yet.