
এইমাত্র পড়ে শেষ করলাম সম্প্রতি প্রকাশিত সাহিত্যিক Debarati Mukhopadhyay এর “উল্লাসকর বোমা বিপ্লব প্রেম ও দেশভাগের মহাকাব্য “। প্রায় চারশো পাতার এই উপন্যাস কিন্তু ইতিহাস নয়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এ রচিত। লেখিকার পড়াশোনা এবং অনেক পরিশ্রম এর ফসল। সত্যিই আজও অনেক শিক্ষিত মানুষ ও এককথায় উল্লাসকর বললে বুঝতে পারেন না কে তিনি।অথচ হারিয়ে যাওয়া নায়ক রা যাদের রক্তের দাম দিয়ে পাওয়া স্বাধীনতা আজ আমরা ভোগ করছি। উল্লাসকর দত্ত ই শুধু না জানতে পারি হেমচন্দ্র কানুনগো, ইন্দুভূষণ রায়, বারীন ঘোষ, সত্যেন বোস, কানাইলাল দত্ত, প্রফুল্ল চক্রবর্তী, চারুচন্দ্র বসু, প্রফুল্ল চাকি, ক্ষুদিরাম বসু ইত্যাদি ইত্যাদির ( নাম বলতে বলতে লেখা শেষ হয়ে যাবে তাই আরো অনেকে ) ত্যাগ এর কথা। লাবণ্যবেশী, শোভনা, মুক্তকেশী, লীলা, সুন্দরী মোহন দাস, নিরঞ্জন পাল এর মতো নেপথ্যে থাকা সাপোর্ট সিস্টেম কে তো আমরা জানলাম ই না। ভালো লাগছে সশস্ত্র বিপ্লব, মুরারি পুকুর, আলিপুর বোমা মামলা র সাথে কি অদ্ভুত ভাবে লেখিকা আসাম এর ভাষা আন্দোলনকে মিলিয়ে দিলেন। তবে হ্যাঁ বিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত আর প্রেমিক উল্লাসকর দত্ত দুই সত্তার পরিচয় দিতে গিয়ে লেখিকার প্রেমিক উল্লাসকর দত্তের ওপর পক্ষপাতিত্ব নজরে আসে। কিন্তু কোথাও গিয়ে অরবিন্দ ঘোষ, বারীন ঘোষের ওপর একটা নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট তৈরী হচ্ছে যেটা কাম্য নয় বলে আমার একান্ত ব্যক্তিগত মত। তবে হ্যাঁ বেশ কিছু দিন উল্লাসময় হয়ে থাকবো। উল্লাসকর জাকিয়ে বসলেন আমার মননে বোধে চিন্তনে। সব শেষে এই ইতিহাস এর হারিয়ে যাওয়া নায়ক শিখিয়ে দিলেন মনের জোর, সততা, আর পসিটিভ মনোভাব আমাদের আপাত ভাবে আবেগে ভাসিয়ে নিয়ে গেলেও সেটার ও দরকার আছে। খুব ভালো লাগলো। সবাইকে বলবো একবার অন্ততঃ ভারতীয় হিসাবে বাঙালি হিসাবে ছাতি চওড়া করার জন্য পড়ে দেখবেন দেবারতি মুখোপাধ্যায় এর উল্লাসকর।ভালো লাগবেই কথা দিলাম।




