•বই – অতৃপ্ত অশরীরী
•লেখিকা- পল্লবী সেনগুপ্ত
•প্রকাশক – Deep Publication
অতৃপ্ত অশরীরী ![]()

সত্যি বলতে আমার কোনো বই এর সম্পর্কে রিভিউ লেখা হয়ে ওঠে নি । তবে এই বইটা পড়ার পর মনে হলো নিজের মতো করে দুটো কথা লিখি। আমি সাধারণত ভ্রমণ ও ভৌতিক গল্প পড়তে ভালোবাসি তাই পল্লবী সেনগুপ্তের “অতৃপ্ত অশরীরী” বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম ভৌতিক গল্প ভেবে। শুরু থেকেই একটা রহস্যের ব্যাপার ছিল, তবে গল্প যত এগিয়েছে তত বুঝেছি শুধু ভূতের ভয় দেখানোই মূল বিষয় নয়।
বইটায় দুটো গল্প আছে। প্রথম গল্পটা পড়ার সময় পুরনো দিনের পরিবেশ, জমিদারবাড়ি, তান্ত্রিক এসবের একটা আলাদা ধরনের অনুভূতি। তার সঙ্গে একের পর এক অদ্ভুত ঘটনা। কিছু কিছু জায়গায় সত্যিই অস্বস্তি লেগেছে, আবার পরের ঘটনাটা কী হবে সেটা জানার জন্য আগ্ৰহও থাকছে । অপর দিকে দ্বিতীয় গল্পটার আবার একটু আলাদা। এখানে একটা পরিবার, কিছু পুরনো ঘটনা আর একটা পুতুলকে ঘিরে এমন কিছু ঘটনা আসে, যেগুলো প্রথমে স্বাভাবিক মনে হলেও পরে অন্যরকম লাগে। এই গল্পটাই আমার বেশি ভালো লেগেছে। বিশেষ করে পুতুলটার ব্যাপারটা কীভাবে এগোবে সেটা জানতে বেশ আগ্রহ হচ্ছিল।
আর একটা জিনিস ভালো লেগেছে, গল্পগুলোর চরিত্রগুলো শুধু গল্পের মধ্যে থাকা মানুষ মনে হয়নি। তাদের নিজেদের সমস্যা, ভুল, ইচ্ছে, রাগ—সবকিছু মিলিয়ে তাদের কাজকর্মের একটা কারণ ছিল। তাই কিছু চরিত্রকে ভালো লেগেছে, আবার কিছু চরিত্রের কাজ দেখে বিরক্তও লেগেছে।
কিছু জায়গায় ভয়ের থেকে রহস্যটাই বেশি উপভোগ করেছি। আবার কিছু দৃশ্য একটু বেশি অস্বস্তিকরও লেগেছে। বিশেষ করে প্রথম গল্পের কয়েকটা ঘটনা পড়ার সময় একটু থেমে পড়তে হয়েছে।
ভাষাটা সহজ হওয়ায় বইটা পড়তে সমস্যা হয়নি। খুব কঠিন শব্দ নেই। একবার পড়তে বসলে পরের ঘটনাটা জানার জন্য এগিয়ে যেতে ইচ্ছে করেছে।
বইটা পড়ে আমার একটা কথা বারবার মনে হয়েছে—সব ভয় যে বাইরে থেকে আসে তা নয়। মানুষের নিজের কাজ আর নিজের মনের কিছু দিকও কখনও কখনও ভয়ের কারণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে বইটা আমার ভালো লেগেছে। ভৌতিক গল্পের সঙ্গে রহস্য আর মানুষের জীবনের কিছু অন্ধকার দিক থাকায় পড়ার অভিজ্ঞতাটা একটু অন্যরকম হয়েছে। আমার মতো যারা খুব বেশি ভৌতিক বই পড়েনি, তারাও হয়তো বইটা পড়ে দেখতে পারো।
এটা আমার প্রথম দিকের বই-রিভিউ। আধুনিক যুগের ব্যস্ততা কাটিয়ে বইটি পড়ুন , ভালো লাগবে আশা করি।



