জীবনভর যে মন্থন আমরা করে চলি, তার পোশাকী নাম দিই খোঁজ। খোঁজ কিসের? না অমৃতের। সেই অমৃত কেমন দেখতে হয়? শিশুর মুখের এক চিলতে হাসি? চাঁদনী রাতের কাঞ্চনজঙ্ঘা? নাকি পাকদণ্ডী পথ ধরে আজীবন হেঁটে যাওয়া সেই নারীটির সঙ্গ? মাথার ওপর সদ্যমৃত প্রেমিকের চোখের মণির মতন ফ্যাটফ্যাটে চাঁদ? সবার স্বর্গ নাকি আলাদা, তাহলে সবার অমৃতও হয়তো আলাদা। হয়তো গরলও। কোথাও ছোঁয়া লাগলে চিতাকাঠের রমন জ্বলে ওঠে, কোথাও ভ্রূভঙ্গে তছনছ হয়ে যায় মেঘের সমভূমি। শান্ত স্তব্ধ রাতের ভেতর আওয়াজ আসে, অজগর সাপ মায়া হরিণ ধরেছে।
আমরা শিল্পের মধ্যে এগুলোই খুঁজি। নিজেদের হর্ষ, নিজেদের আর্তনাদ। খুঁজে পেলে বলি, বাঃ শিল্পী আমার উথলে ওঠা কামনা জর্জর ঠোঁটের ওপর কী অবলীন তর্জনী ছোঁয়ালেন! অথবা বলি, শিল্পী যা বলেছেন, এমন গল্প যেন শুনেছিলাম। আজ থেকে বহু জন্ম আগে, কীর্তিনাশা নদীটির পাড়ে তখন আমার ঘর ছিল, দাওয়ায় লুটোপুটি খেত সোনারোদের আদর। আর এক রাজকন্যা আমায় শিখিয়েছিল, কবিতা লিখতে গেলে আগে শিখতে হয় মৃত্যুর নিপুণ পরাকাষ্ঠা। শিল্পী কীকরে চিনলেন সেই কন্যাকে! শিল্প তো সেই খোঁজ। জীবনের মতো। আর সব খোঁজ শেষ হয় সেখানে এসে, যেখানে কুবো পাখি জন্ম জন্মান্তরের শূন্য কাটাকুটি ভরা হাতের ওপর এসে গান গায়, “সকলই ফুরাল স্বপন প্রায়।”
ওই কুবো পাখির ডাক যখন থেমে যায়, নেতি শুরু হয়। আমি সব পেয়েছি, তাই আমি তৃপ্ত, এর নাম আধ্যাত্মিকতা নয়। আমার আর কিছুই পাওয়ার নেই, কোনোদিন ছিল না। আমি আপনাতে আপনি স্থিত, এটুকু আধ্যাত্মিকতার বর্ণমালার প্রথম এবং অন্তিম অনুচ্ছেদ। অথচ আমাদের প্রাত্যহিক সাহিত্যের আঙিনায় আধ্যাত্মিকতা নিয়ে বেশি বই লেখা হয় না। তার কারণও আছে। একটি কারণ এই বিদ্যা পুরোপুরি গুরুমুখী। প্রকাশ্যে কেউই আনেন না, সমীচিনও নয় সত্যি বলতে। আরেকটি কারণ যে রহস্যময়তা, যে একাকীত্ব, রামধনু বাসর শেষের যে নিঃসীম শূন্যতা সেটুকু নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনায় আমরা কেউই খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। শহরের একশো একটা আলো, ভিড়, ক্লিপ দিয়ে টেনে রাখার মতন অসংখ্য পিছুটান আমাদের নির্জন হতে দেয় না।
তবু, তবু নেতি শাস্ত্র নিয়ে বই লেখা হয়। আগেও হয়েছে, পরেও হবে। কারণ যা আমাদের জানায়, দাবী করে জীবনের এতো অসংখ্য শুকিয়ে যাওয়া গিরিখাত কেবলমাত্র সত্য নয়, নিজেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবচয় করে ফেলা কেবল সত্য নয়, আরও গুঢ় কোনো কবিতার অবকাশ আছে জীবনে, অথবা মরণে। তার প্রতি আকর্ষণ অমোঘ।
শুনেছিলাম লেখকের প্রথম বই ছিল বোহেমিয়ানের সাধুসঙ্গ। আমি পড়িনি। তবে নাম শুনে মনে হয়েছিল এটা ওই ধরণের বই। যেখানে দাঁড়িয়ে অনায়াসে প্রটাগনিষ্ট প্রশ্ন করতে পারেন, “এবার আমি কী করব? কোথায় যাব?” হারিয়ে না গেলে তো কেউ পথের সন্ধান করে না। সর্বস্ব না হারালে তো কেউ রাজা হয় না। এই বইটা যখন বেরোল, তখন মনে হয়েছিল এটাও ওই ধরণের বই হবে। যেখানে প্রশ্নের আদিতে যাওয়ার একটা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে। যেখানে চীবর পরে হেঁটে যাবেন উদাসী শ্রমণ, বুকের মধ্যে নীল জলের কাছে অবনত দূর্বাদলশ্যাম মেঘের ঘনঘটা।

বইয়ের প্রচ্ছদে দুজন সন্ন্যাসী বসে আছেন, একে অপরের দিকে মুখ করে। তাঁদের মাঝখানে লেখককে দেখা যাচ্ছে। এই প্রচ্ছদ এবং লেখকের আগের বইয়ের বর্ণনা শুনে ধারণা হয়েছিল এটিও হয়তো সত্য ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা। বইটা খানিকটা সেটা, খানিকটা সেটা নয়। কারণ বোহেমিয়ানের সাধুসঙ্গ একটি উপন্যাস। কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম অভিজিৎ শাক্য ভট্টাচার্য। একটি স্বপ্ন তাকে ঘুমোতে দেয় না, সে কোন অনাদি অতীত কালের, অন্য কোনো জন্মের নিবেশিত পথরেখা। ওটুকু হাতছানির আবেশ বাকি রয়ে গিয়েছিল বুঝি, ওইটুকু মায়া, পাহাড়পাত্রের অবতলে ওইটুকু প্রগাঢ় নীল প্রারদ্ধ থির পদ্মপাতার মতন জেগে ওঠে নিদ্রার নিথর তরঙ্গে। সেই স্বপ্নের উৎস সন্ধানে তিনি বেরিয়ে পড়েছেন ঘর ছেড়ে। তারপর ঘটনার ঘাত প্রতিঘাত, সাধুসঙ্গ এবং অসঙ্গ, নানান গতিতে উপন্যাস তার নিজের ধারায় বয়ে গেছে। পড়লেই বোঝা যায়, তার কিছুটা নিখাদ চোখের সামনে দেখা ঘটনা, কিছু কল্পনা। লেখক ভূমিকাতে স্বীকারও করেছেন মূল ঘটনা তাঁর নিজের জীবন থেকে নেওয়া। বাকিটুকু শূন্য পাত্রের মতন। শূন্যতাই তার উপযোগিতার একক। ওটুকু কল্পনা।
সত্যি বলতে এর আগে এই ধরণের বইয়ের কথা বলতেই মনে পড়বে প্রমোদকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তন্ত্রাভিলাষীর সাধুসঙ্গ, কী শ্রী শৈলেন্দ্র নারায়ণ শাস্ত্রীর তপভূমি নর্মদা, অথবা কালকূটের কোথায় পাব তারে, প্রেমাঙ্কুর আতর্থীর মহাস্থবির জাতক। প্রবোধ কুমার সান্যালের মহাপ্রস্থানের পথেও এই সারিতে উল্লেখ করা যায়। যেটা বলার, প্রমোদকুমার চট্টোপাধ্যায় নিজে একজন বিখ্যাত শিল্পী ছিলেন, তিনি সন্ন্যাস নেওয়ার জন্যই ঘর ছেড়েছিলেন। শ্রী শৈলেন্দ্র নারায়ণ শাস্ত্রী নিজে সাধক ছিলেন। কালকূট, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, প্রবোধ কুমার সান্যাল এঁরা কালজয়ী লেখক। একজন সাধক কী সন্ন্যাসী কী একজন দুঁদে সাহিত্যিক যে চোখে সাধুসঙ্গ দেখবেন, একজন সাধারণ মানুষ সেই চোখে দেখবেন না সেটাই স্বাভাবিক।
লেখক রাজাধিরাজ ভট্টাচার্য শিল্পী, সাধক, দুঁদে সাহিত্যিক কোনোটাই নন। তিনি একজন বোহেমিয়ান, ঘুরতে ভালোবাসেন, সাধুসঙ্গ ভালোবাসেন কিন্তু আদতে তিনি একদম আমার আপনার মতন সাধারণ গৃহী মানুষ। তাঁর আলো, কালো, রোদ্দুর এবং ছায়া আমাদের অনুরূপ। ঠিক এই জায়গাটা এই বইয়ের একইসঙ্গে দুর্বল জায়গা, এবং সবচেয়ে সবল আঁকড়া। তিনি সাধারণ মানুষের চোখে সাধুসঙ্গ দেখেছেন। সেখানে যেমন বিস্ময় আছে, তেমনি ভক্তি আছে, ভয় আছে, বালকের অসহায়তায় “আমি আর পারছি না” এই আর্তি আছে। এগুলো আমাদের চেনা মোটিফ। আমরা, আমরা যারা পরীক্ষার আগে ঠাকুরঘরে যেতে অভ্যস্ত, সেই আমাদের মত মানুষ তো এভাবেই আধ্যাত্মিকতা দেখেন। সেখানে এক সহজ বিস্ময় এবং মুগ্ধতাবোধ কাজ করে। এটা সাধকের জবানিতে পাওয়া যাবে না। পাওয়া যাবে একজন সাধারণ মানুষের জবানিতে, একজন বোহেমিয়ানের আত্মকথনে। বইটি সেখানেই আধ্যাত্মিক অন্বেষণের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে ওঠে পাঠকের সঙ্গে লেখকের সরল, অনাড়ম্বর এবং অতি অবশ্যই আন্তরিক কথপোকথন। বাকি বইগুলোর চেয়ে এই বইটি এখানেই আলাদা।
একজন দুঁদে সাহিত্যিক জোর দেবেন মুহূর্ত নির্মাণের ওপরে। সাহিত্যের প্রথামাফিক ব্যাকরণে। যেটা দীর্ঘদিনের সাধনার ফসল। অনেকটা দ্রাবিড়ের ডিফেন্সের মতো কী সৌরভ গাঙ্গুলির কভার ড্রাইভের মতো। মুগ্ধ চোখে দেখতে হয়। কিন্তু দশ ওভারের শেষে রান পঞ্চাশ, এক উইকেট পড়ার পর। লেখক মুহূর্ত গঠনের কোনো সচেষ্ট চেষ্টা করেননি। কন্টেন্ট, কেবলমাত্র কন্টেন্টের জোরে তিনি ব্যাট চালিয়ে গেছেন। ব্যাট এবং প্যাডের মাঝের ফাঁক নিয়ে তিনি একটুও চিন্তিত নন। হওয়ার কারণও নেই, কারণ স্কোরবোর্ড সচল। বোহেমিয়ানের স্বপ্নদর্শন তো মূলত উপন্যাস, উপন্যাসের গতি লাগে। এবং বইটির গতি ঝড়ের মতন। এক্কেবারে টি টুয়েন্টি ঘরানায় লেখক ব্যাট করেছেন। একবার ধরলে ছাড়তে পারা অসম্ভব।
কারণ লেখক শুরুতেই লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করে রেখেছেন। স্বপ্ন। যা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে এবং জেগে উঠে নিজেকে নিঃশেষে নিয়োজিত করে সেই অতুল লক্ষ্যের দিকে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই অন্তিম আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাহিনী ছেড়ে নড়ার উপায় থাকে না।
কিছু জায়গা, যেমন ধরুন কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটল। ওইটুকু জায়গা নিয়েই কিন্তু অসংখ্য ছোট ছোট ডিটেলস, সূক্ষ্ম কাজের জায়গা দিয়ে একজন লেখক ফাটিয়ে দিতে পারেন। অথচ রাজাধিরাজ করলেন কী, অর্ধেক পাতার বেশি গেলেনই না। বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। এবং বিশ্বাস করুন, পাঠক হিসেবে আপনার একটুও মনে হবে না, ইশ ওই জায়গাটা আরেকটু কিছু বললেন না লেখক! আপনি ততক্ষণে পৌঁছে গেছেন অন্য কোনো সাধকের ছায়াঘন অস্তিত্বের সামনে। জানতে চাইছেন, আচ্ছা এখানে তাহলে কী হবে এবার?
ঠিক এই ধরণের গতি এই উপন্যাসের। পড়তে পড়তে মনে হবে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। আর সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ব্যক্তিগত ধারণা যেহেতু লেখকের নিজের জীবনে এর অনেকটা ঘটনা ঘটেছে, তিনি ঠিক ঠিক সেই জয়গাগুলোকেই মান্যতা দিয়েছেন যেখানে তিনি নিজে কমফর্টেবল। অথবা যে জায়গাগুলো তাঁর নিজের কাছে স্পর্শকাতর বলে মনে হয়েছে অথবা হয়েছিল। এবং যেহেতু উত্তম পুরুষে বলা গল্পে আপনা থেকেই একটা বৈঠকি ভাব এসে যায়, পাঠক খুব সহজে ঘটনাগুলোর সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দিতে পারেন। আর যতক্ষণ এই গতিতে ঝোড়ো ব্যাটিং হয়, ব্যাটের কানায় লেগে ছয় হলেও গ্যালারি উচ্ছসিত হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে।
কিছু রহস্যঘন জায়গার ছবি আবার খুব খুব সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ডিটেলসে ভরা। খুব সম্ভবত লেখার সময় লেখক আবার করে ওই মুহূর্তগুলো বাঁচছিলেন। সেজন্য সেগুলো এতোটা ভিভিড। হাত বাড়ালে ছোঁয়া যায় এমন। কিছু জায়গায় লেখকের ভাষা একেবারে পথ চলতি মজার ছলে বলার মতন। বিষয় ভাবগম্ভীর, কিন্তু লেখক বলছেন একেবারে লঘু ছলে। কোনো শিল্পী, কোনো সাধক, কোনো প্রথিতযশা সাহিত্যিক এই সাহস দেখাবেন না। লেখক এই স্পর্ধা দেখাতে পারেন, দেখিয়েছেন কারণ নিজের গল্প বলা ছাড়া কোন মত প্রতিষ্ঠার দায় তাঁর নেই। অহেতুক ভাবগম্ভীরতার সহজ ফাঁদ থেকে তাই এই বইটি বেঁচে গিয়ে সহজে স্বাস নিতে পেরেছে।
বহু সাধকের প্রসঙ্গ এসেছে গল্পে। গুমনামি বাবার প্রসঙ্গও এসেছে। স্বপ্নের ব্যাখ্যার কিছু সহজ দিকনির্দেশ করার চেষ্টা করেছেন লেখক। পথে চলার পথে রাস্তার ধারে অহেতুক ফুটে থাকা ফুলের মতন সম্পর্ক কখনও তাঁকে মুগ্ধ করেছে, কখনও বাঁধনে বাঁধতে চেয়েছে, কখনও মুক্ত করতে চেয়েছে। কিন্তু যে স্বপ্নের কথা দিয়ে তিনি পথ চলা শুরু করেছিলেন, ওই সেই বিশাল রানের লক্ষ্যমাত্রা, সেখান থেকে সরে আসেননি। গল্পের শাখা প্রশাখা মূল বিটপীর ঊর্ধ্বগতি শ্লথ করতে পারেনি। উপন্যাসের শেষ যথাযথ। স্বপ্ন দর্শন, স্বপ্ন ধাবন এবং অন্তিমে ক্লাইম্যাক্স, সেটুকু স্বাভাবিক কারণেই উহ্য রাখা হলো। কিন্তু যেখানে শেষ হয়েছে, তারপর এই স্বপ্নসঞ্জাত আর কোনো কাহিনীবিন্যাসের অবকাশ নেই। তাই পাঠকের অতৃপ্তির কোনো জায়গা লেখক রাখেননি।
বানান ভুল ভীষণ অল্প। বাঁধাই, প্রচ্ছদ যথাযথ। একটাই অনুযোগ, ভেতরের ছবিগুলো ব্যক্তিগত ভাবে ভালো লাগেনি। আরেকটু যত্ন নেওয়ার অবকাশ আছে বলে মনে হয়েছে। সবকটি ছবির কথা বলছি না, কিন্তু কয়েকটি ছবি ভীষণভাবে চোখে লাগে। যেমন একদম শেষে পাহাড়ের রাস্তায় শ্বাপদের মুখোমুখি হওয়া, পিণ্ডারিজির একটা ছবি এগুলো চোখে লেগেছে। লেখক লঘু ছন্দে গল্প বলতেই পারেন, তার মানে অলঙ্করণ লঘু হতে হবে এমন কোনো কথা নেই।
বোহেমিয়ানের স্বপ্নদর্শন বইটি দিনের শেষে একটি সার্থক থ্রিলার। যেখানে প্রভূত গতি আছে, অলৌকিক আবহ আছে এবং এই সবকিছু ছাপিয়ে আছে এক রহস্যময় জগতের হাতছানি। কুয়াশার সরের মতন গোটা কাহিনী জুড়ে বিস্তার লাভ করেছে সে। সেখানে আমাদের বহু লৌকিক ধারণা নস্যাৎ হয়ে যায়, হৃদয় জানতে চায়, এরপর? আসলে এরপর বলে কিছু হয় না। কাকে যে কী তাড়না করে বেড়ায়, সে সেই প্রাণ ছাড়া আর কেউ কোনোদিন অনুধাবন করতে পারে না। আমাদের সকলের গল্প আলাদা আলাদা, আমাদের সবার মাথার ওপরে যে রহস্যময় আকাশ অসীম নিঃসীমে বেষ্টন করে আছে, সেও সকলের কাছে আলাদা আলাদা। শুধু ওই অলীক স্বপ্নের প্রতি টানটুকু বোধহয় এক। যা ঘুমোতে দেয় না আমাদের, মাঝরাতে চোখ খুলে অনিকেত আকাশমন্ডলের দিকে চেয়ে আমরা গল্প শুনতে চাই। জন্ম জন্মান্তরের সেই গল্প। যে গল্পের কোনো আদি নেই, তাই কোনো অন্তও নেই। যে গল্প আমাদের আঁকড়ে ধরার, হারিয়ে যাওয়ার, পাওয়ার, না পাওয়ার এবং মুঠো খুলে দেওয়ার অকরুণ শিল্প শেখার। অতিদূর কোনো পাণ্ডব বর্জিত গুহায় তখন হয়তো কোনো সাধক মন্ত্র উচ্চারণ করছেন, “তখন আমায় নাই বা মনে রাখলে।”
তখন আবার পথ ডাকে, হারিয়ে যাওয়ার জন্য, বোহেমিয়ানের মতো। তাঁর স্বপ্নের মতো।।




