বই: কুহকিনী নেপথ্যে
লেখিকা: পল্লবী সেনগুপ্ত
প্রকাশক: দীপ প্রকাশন
মূল্য: ২৭৫/-

এই বইটির প্রচ্ছদ প্রথমেই আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। এরপর একে একে গল্পগুলি পড়ে স্তম্ভিত হয়ে যাচ্ছিলাম। চিরাচরিত ভয়ের গল্প থেকে বেশ ভিন্ন ধারা বহন করছে এই কাহিনীগুলো। মোট ছয়টি গল্প আছে এখানে।
প্রত্যেকটি লেখনি এখানে মনস্তাত্ত্বিক একটি দিক কে প্রতিফলিত করেছে। কোথাও না কোথাও ভয় মিশ্রিত আবহাওয়ায় আপনি প্রেতিনীর জন্য ব্যথা অনুভব করবেন। শুধু মাত্র ভাগ্যের পরিহাসে একজন নারীর জীবন কতটা যন্ত্রণাময় হতে পারে, তা যেন এই গল্পগুলোর পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে।
* অশুভলগ্না – এই গল্পটি এক নারীর করুন আখ্যান। তবে শেষটি পড়ে মনে হয়েছে লেখিকা যথার্থই বিচার করেছেন তার সাথে। আজকের বর্তমান পরিস্থিতে দাঁড়িয়ে সত্যিই যদি নির্যাতিত নারীর আত্মা এমন কাণ্ড ঘটাতে পারত তাহলে হয়তো কিছুটা জ্বালা জুড়াতো।
* বুলির লাভ স্টোরি – এ এক অন্য রকম প্রেমের গল্প। শারীরিক ক্ষিদে আর মানুষিক প্রত্যাশা মানুষকে কতটা অসহায় করে দেয়, তাই এই গল্পের বিষয়বস্তু। প্রেত জীবন প্রাপ্তি যেন হয়ে ওঠে পুরস্কার স্বরূপ।
* অসমাপ্ত – জীবনের গল্প যেন জন্ম জন্মান্তরেও অসমাপ্ত থাকে। ভারী অদ্ভুত এই কাহিনী
* ছায়া শরীর – কার ছায়া দেখতে পায় বরুণ? হঠাৎ করে নিজের স্ত্রীর প্রতি এত আক্রোশ কেনো? অতীতের পাপ যে বাপ কেও ছাড়েনা, তারই এক নিদারুণ উদাহরণ এই কাহিনী। পড়তে গিয়ে শিহরণ জাগে।
* অসম্পূর্ণ – প্রতিটি জীবন মূল্যবান। মা বাবা হওয়া সহজ কথা নয়। এই গুঢ় সত্যকে উপলব্ধি করা যায় এই কাহিনীর মাধ্যমে। আমার মনটি ছুঁয়ে গেছে এই গল্প। অনুভব করতে পারছিলাম একটি শিশুর কান্নাকে।
* প্রিয়তমা – প্রেমের কি সাংঘাতিক পরিণতি হতে পারে, তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ এই গল্প। চোখে জল এসে গেছে এই করুন পরিণতি দেখে। আমার সব থেকে ভালো লেগেছে এই গল্পটি।
লেখিকার হাতের বুননে প্রতিটি গল্প হয়ে উঠেছে এক জ্বলন্ত শিক্ষা। নারী হৃদয় যে কতটা বেদনা সহ্য করে, তার উদাহরণ প্রতি পাতায়। প্রেতের সঙ্গেও যেন এক আত্মিক বন্ধন রচিত হয় এই গল্পগুলো পড়লে। তাই সবশেষে কুর্নিশ জানাই লেখিকা এমন অদ্ভুত সুন্দর একটি বই রচনা করার জন্য।
প্রসঙ্গত ওনার স্বাক্ষর বড় প্রাপ্তি।




