‘বঙ্গলক্ষ্মী’ ঠাকুরবাড়ির পত্রিকা না হয়েও একান্তই ঠাকুরবাড়ির। ঠাকুরবাড়ির বধূ হেমলতা দেবী প্রায় একুশ বছর একটানা সম্পাদনা করেছেন। সাফল্যের সঙ্গে এতদিন ধরে একটি পত্রিকার সম্পাদনা হেমলতা ছাড়া ঠাকুরবাড়ির আর কেউ করেননি। হেমলতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথের বড়দা দ্বিজেন্দ্রনাথের পুত্রবধূ, দ্বিপেন্দ্রনাথের স্ত্রী।
ঠাকুরবাড়ির বধূমাতার সম্পাদনায় প্রকাশিত, তাই ‘বঙ্গলক্ষ্মী’তে পরিবারের লেখকদের বেশি আনাগোনা।
দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর বা সুনয়নী দেবী সামগ্রিকভাবে কতটুকুই বা লিখেছেন! ‘বঙ্গলক্ষ্মী’তে অবশ্য তাঁরা লিখেছেন। লিখেছেন ঠাকুরবাড়ির দ্বিজেন্দ্রনাথ, ক্ষিতীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ, ব্রতীন্দ্রনাথ, সরলা, ইন্দিরা, অমিতা ঠাকুর এবং আরও কেউ কেউ! এ পত্রিকা যাঁর পৃষ্ঠপোষকতায়, আগ্রহে, পত্নীর স্মৃতি রক্ষার্থে প্রকাশিত হয়েছিল, তিনি গুরুসদয় দত্ত।
ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে ‘বঙ্গলক্ষ্মী’র নিবিড় প্রত্যক্ষ যোগাযোগ, ফলে এক বাড়তি সমীহ সৃষ্টি হয়েছিল। গুরুসদয়ের প্রভাব সমাজজীবনে, এমনকি লেখকমহলেও কম ছিল না, তিনি নিজেও লিখতেন। তাই ভালো লেখা পেতে অসুবিধা হয়নি। সমসাময়িক উল্লেখযোগ্য কবি-লেখকরা প্রায় সকলেই লিখেছেন।
দুর্লভ-দুষ্প্রাপ্য ‘বঙ্গলক্ষ্মী’-র পাতায় পাতায় বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধির ইতিবৃত্ত। কত না বরণীয়-স্মরণীয় রচনাসম্ভার সমসাময়িক কে না লিখেছেন! হেমলতা দায়িত্বভার নেওয়ার আগে বছর দেড়েক সম্পাদনার দায়িত্ব সামলেছেন কুমুদিনী বসু। সূচনাপর্বে
‘বঙ্গলক্ষ্মী’ নিজস্বতায় উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারেনি। হেমলতার কালে ‘বঙ্গলক্ষ্মী’-র পাতায় পাতায় সোনার ফসল ভরে উঠেছিল। সেই স্বর্ণযুগের ইতিহাস তো হারিয়ে যেতে পারে না!
এক নারীর সাফল্য, ঠাকুরবাড়ির বধূমাতার সাফল্য দেরিতে হলেও এতদিনে আলোকিত হল।
‘বঙ্গলক্ষ্মী’ পত্রিকার এই নির্বাচিত রচনা সংগ্রহ হাতে নিয়ে যে কোনো পাঠকই বিস্মিত হবেন। মনে হবে, এই বিপুল মণিমাণিক্যের সংবাদ এতদিন পাননি কেন! কেনই-বা এসব আড়ালে ছিল!
Bengali Books
Bangalaxmi nirbachito Rachana Sangraha || Parthojit Gangapadhyay || বঙ্গলক্ষ্মী নির্বাচিত রচনা সংগ্রহ || পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
₹550.00



Reviews
There are no reviews yet.